লুকোচুরির অবসান! অবশেষে বাবুলের সঙ্গে তৃণমূলে ফিরলেন সুনীল মন্ডল

বর্ধমান পূর্বের সাংসদ সুনীল মণ্ডল শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। তবে খুব কম সময়ের মধ্যেই মোহভঙ্গ হয় তাঁর। গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। দাবি করে বলেছিলেন যে, তিনি তৃণমূলেই আছেন।

তাঁর এই মন্তব্যের জেরে বর্ধমান পূর্বের সাংসদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। এবার রবিবার তৃণমূলের কার্যালয়ে দেখা গেল বর্ধমান পূর্বের সাংসদ সুনীল মন্ডলকে।

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ডিসেম্বর মাসে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙ্গন শুরু হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় বড় নেতারা গেরুয়া ঝান্ডা ধরেছিলেন হাতে। বর্ধমান পূর্বের সাংসদ সুনীল মণ্ডল নিজেও ছিলেন সেই তালিকায়।

মেদিনীপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জনসভায় মঞ্চে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কাটোয়ায় বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচারে গিয়ে সেখানকার তৃণমূল কর্মী খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির হয়ে পোস্ট করেছিলেন তিনি।

তবে বিজেপিতে যাওয়ার মাস কয়েকের মধ্যেই মোহভঙ্গ হয় সুনীল মন্ডলের। সুনীল মণ্ডল বলেছিলেন, “তৃণমূল থেকে যারা বিজেপিতে এসেছে, তারা মানিয়ে নিতে পারছে না। আসলে বিজেপি তাদের বিশ্বাস করতে পারছে না। তথাগত রায়, দিলীপ ঘোষরা এদের সম্পর্কে অন্যায় কথা বলছেন।

দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ২০১৯ সালের পর যারা বিজেপিতে এসেছে তাদের আগে বিজেপি হতে হবে। এটা অন্যায় কথা।” তারপর আবার দাবি করেছিলেন, তিনি নাকি মনেপ্রাণে তৃণমূলেই রয়েছেন। যদিও তৃণমূলের ফেরার জন্য সুনীল মন্ডলের এই প্রচেষ্টাকে খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি তৃণমূল। পরিবর্তে সুনীল মণ্ডলের সাংসদ পদ খারিজের জন্য বারবার লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দেয় তৃণমূল।

এই সকল জল্পনার মধ্যে রবিবার বাবুল সুপ্রিয়র তৃণমূলে যোগদান করার পর, বর্ধমান পূর্বের সাংসদ সুনীল মণ্ডলকে দেখা গেলো তাঁর গাড়িতে। বাবুল সু্প্রিয়র সঙ্গে ক্যামাক স্ট্রিটে আসেন সুনীল মণ্ডল। তৃণমূলের অনুষ্ঠানেও ছিলেন তিনি। দাবি করলেন, তিনি তৃণমূলেই আছেন।