“এতটাও খারাপ সময় আসেনি যে বিবাহিতদের সঙ্গে পরকীয়া করব”, জানালেন শ্রীময়ী

কাঞ্চন ও পিঙ্কির ৯ বছরের দাম্পত্য জীবন এখন আইনের দরজায় গিয়ে ঠেকেছে। বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় খলনায়িকা শ্রীময়ী চট্টোরাজ,

যিনি বর্তমানে “কৃষ্ণকলি” ধারাবাহিকে “রাধারানী” চরিত্রে অভিনয় করছেন। কাঞ্চন মল্লিক ও তাঁর স্ত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কের মাঝে দেওয়াল তুলে দেবার জন্য,

নাকি শ্রীময়ীর নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ এখন শুধু অভিযোগে আটকে নেই, পৌঁছে গিয়েছে থানা পর্যন্ত। কাঞ্চন ও শ্রীময়ীর নামে নিউ আলিপুর থানায় পিঙ্কি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অবশেষে ভিডিও বার্তায় মুখ খুললেন শ্রীময়ী। জানালেন আসল ঘটনার কথা। ইনস্টাগ্রামে প্রায় সাড়ে ৯ মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন শ্রীময়ী।

সেখানে তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, নেগেটিভ পাবলিসিতে আমার নামটা এখন হাইলাইটেড হয়েছে। এ জন্য আমি দুঃখিত ও লজ্জিত৷

অনেকে নেগেটিভ কমেন্ট করেছেন। তবে অনেকে যাঁরা আমাকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁরা জানেন আমি কী ধরনের। আমি হয়তো নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করি,

তবে বাস্তব জীবনে শ্রীময়ী একেবারেই নেগেটিভ নয়৷ আমি মানুষের সঙ্গে মিশতে পারি, আমি আড্ডা মারতে ভালবাসি। আমার বয়সটা তো খুব বেশি নয়৷

সদ্য কলেজ পাস আউট করেছি ২০১৮ সালে৷ আজ যা হল, তাতে আমার মানসিক চাপ বাড়ল এবং কাজের ক্ষেত্রেও ক্ষতি হবে”।

তিনি আরও জানান, “সময় লাগবে তবে সত্যিটা সামনে আসবে। কারও সংসার ভেঙে, পরকীয়া করে, কারও ক্ষতি করে নোংরাভাবে কারও সঙ্গে জড়াতে চাই না৷

আমি এতটা হতাশ নই এবং আমার সেই দিন আসেনি যে, আমি একজন বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক করব৷ আমার এখন এ সবের সময় নয়,

এখন আমার কাজের সময়৷ মানুষকে মনোরঞ্জন করতে হবে৷ যে জন্য মানুষ আমায় ভালবেসেছেন। যিনি এই কুৎসা করলেন, কেন করলেন, আমি জানি না।

আমার সম্পর্কে যে কথা বলা হয়েছে, এফআইআর দায়ের করেছেন। খুব ভাল করেছেন। পুলিশ সত্যতা যাচাই করবে।”

শ্রীময়ী জানান, আপনারা যদি ভিডিয়োটা দেখে থাকেন, যে ভিডিয়োটা নিয়ে কথা হয়েছে, তাহলেই সব স্পষ্ট হয়ে যাবে। একজন মেয়ে হিসেবে, আমার একটা সম্মান আছে।

আমি যদি কোনও অন্যায় করতাম, তাহলে আমি তাঁর মুখোমুখি হতাম না৷ আমি খুবই অপরাধবোধে ভুগছিলাম৷ তাঁদের দীর্ঘ বৈবাহিক জীবনে যে চিড় ধরেছিল,

তার জন্য আমাকে কেন শিখণ্ডী খাঁড়া করা হল?” শ্রীময়ীর কথায়, “তবে এটার জন্য আমি দায়ী নই৷ আমি একদমই নির্দোষ৷

এই কারণেই আমি সমস্যা মেটাতে গিয়েছিলাম। বলেছিলাম, আমার সঙ্গে কী প্রবলেম, সেটা মেটাও৷ একবার আমার সঙ্গে কথা বলো। আমি ক্লিয়ারেন্স চেয়েছিলাম।

আমি চাইনি এত অসভ্যতামো, এত নোংরামো, এত কাদা ছোড়াছুড়ি৷ আমার কপাল খারাপ। উনি রিয়্যাক্ট করেছেন৷ পুরো ঘটনা রং চড়িয়ে বলা হয়েছে৷ একদম মিথ্যে কথা।

আমি যদি কারওকে ভালবাসি, তাহলে অকপটে সেটা স্বীকার করে নেব। আর আমার মনে হয় একজনের সংসার ভেঙে আমাকে কারওকে ভালবাসতে হবে না৷

তাঁর সঙ্গে স্নেহের সম্পর্ক হতে পারে, মেন্টরের সম্পর্ক হতে পারে, শুভাকাঙ্ক্ষী হতে পারে, কারণ আমি তাঁকে দশ বছর ধরে চিনি।” এবার দেখার পিঙ্কি-কাঞ্চন-শ্রীময়ী এই ত্রিকোণ সমীকরণ কতদূর গড়ায়।