অভাবের সংসার! টাকা বাঁচাতে ৮ কিমি হেঁটেই স্কুলে যেতেন অভাবী শিক্ষিকা, আজ হলেন IAS অফিসার

সমাজ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের দিন কদিন আগেই পেরিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে এই ক’রোনা আবহে অনেক শিক্ষক-শিক্ষাকার জীবনের গল্প সামনে এসেছে। কেউ এগিয়ে এসেছেন মানুষের জন্য কারও বা নিজের জীবনের হার না মানা ল’ড়াই।

সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদের এক প্রাইমারি স্কুলে কর্মরত শিক্ষিকা থেকে সমগ্র ভারতবর্ষে ৮১০ রাঙ্কিং নিয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইএএস অফিসার হওয়ার গল্প জানা গিয়েছে।

ল’ড়াকু এই স্কুল শিক্ষিকার নাম সিরত ফতেমা। তিনি প্রচণ্ড অ’ভাবী পরিবারের কন্যা তাই তিনি প্রাইমারি স্কুলে পড়াতে যাওয়ার সময় যাতায়াত খরচ বাবদ টাকা বাঁচাতে কোনোরকম যানবাহন না নিয়ে ৮ কিমি দীর্ঘ পথ হেঁটেই স্কুলে পৌঁছাতেন।

প্রাইমারী স্কুলে চাকরী পেয়েও পড়াশোনা বন্ধ করেন নি। হা’ড়ভা’ঙা পরিশ্রমের পর তিনি বাড়ি ফিরে নিজের পড়াশোনাও করতেন। তাঁর অ’দম্য ইচ্ছে শক্তির কাছে সাফল্য ধরা দিয়েছে তবে প্রথম বারেই নয়।

২০১৪ সালে UPSC পরীক্ষায় বসেন কিন্তু উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এদিকে অ’ভাবের পরিবারের জন্য তার বাবা-মা তার বিয়ের কথা বলেন এবং তার বিয়েও হয়ে যায়। অনেকেই বিয়ের পর তাদের ইচ্ছে গুলো হারিয়ে ফেলেন।

তিনি কিন্তু বিয়ের পরেও থেমে না গিয়ে নিজের ইচ্ছের দাম রাখেন এবং প্রা’নপন পড়াশোনা করেন। ২০১৪ সালে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০১৭ সালে সিরত ফতেমা আবার পরীক্ষায় বসেন এবং এইবার তিনি গোটা দেশে ৮১০ র‌্যাঙ্ক করে দেশের আইএএস অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হন।

বিয়ের পর সাংসারিক কাজ নিয়ে আর সময় থাকে না। তারপরেও UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি জোরকদমে চালিয়ে যান তিনি। ঘটনাটা কয়েক বছর আগের হলেও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল হয়েছে।

পরিশ্রমই সাফল্যের চাবিকাঠি, তাই ক’ষ্ট না করলে কেষ্ট কখনোই মিলবে না। অ’ভাব শুধুই এক অছিলা, ইচ্ছে শক্তির কাছে সমস্ত প্রতিকূলতা হার মানে। সমস্ত সফল মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময় শ’ক্ত হাতে লড়েছেন তার প্রতি’কূলতার সাথে। সিরত ফতেমা এক অনন্য নজির গড়েছেন সমাজে।