ঘরে অসুস্থ মা বাবা! সংসার ও নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে চা বিক্রি করছে এই কলেজ ছাত্রী, রইল তার জীবন কাহিনী

কেবলমাত্র ইচ্ছা আর মনের জোর তার জোরেই মানুষ অনেক দূর যেতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিন কত রকম ভিডিও ভাইরাল হয় কোনটা,

হয়তো খুব মজার আবার কোনটা হৃদয়বিদারক। ঠিক তেমনি এবার সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল হয়েছে এক জীবন সংগ্রামীর কাহিনী।

বাংলার মেয়ে ইশা গুপ্তা। বয়স তার ১৯ বছর। বীরভূমের নলহাটি হিরালাল দত্ত কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সের ছাত্রী তিনি। বর্তমানে সেকেন্ড ইয়ারে পাঠরতা।

কি ভাবছেন কেন হঠাৎ ঈসার গল্প বলছি? আসলে ইশা এইটুকু বয়সে নিজের সংসারের হাল ধরেছেন তাও আবার চায়ের দোকান তৈরি করে। সময়টা ২০২১। সেই সময় চারিদিকে মহামারী আবহাওয়া হঠাৎ করে একদিন ইশার বাবা স্ট্রোক করেন। অভাবের সংসার নুন আনতে পান্তা ফুরায় তাই সময় মত বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেনি ইশা ও তার মা। তাছাড়া বাড়িতে রয়েছে আরো একটি ছোট বোন। সেদিনই মৃত্যু হয় ইশার বাবার। এটাই ছিল বাড়িতে একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তি তার মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে ইশা। গুপ্ত পরিবারে তখন নেমে আসে অন্ধকারের কালো ছায়া।

কি করবে ইশা হিতাহিত জ্ঞান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সে সিদ্ধান্ত নেয় যেভাবেই হোক পরিবারকে বাঁচাতে হবে।।পরিবার না বাঁচলে সে পরাশোনা চালিয়ে যেতে পারবে না। এই থেকে শুরু হয় তার নতুন লড়াই। ইশা ভেবেছিল দিনের বেলায় সে কলেজে যাবে আর বিকেল বেলায় এসে চলে আসবে এবং চায়ের দোকানে বসবে। ইশার অনুপ্রেরণা এমবিএ চাই ওয়ালা। সে ভেবেছিল একজন এমবিএ পাস করা ছেলে যদি পারে তবে সে কেন পারবে না? সেখান থেকেই শুরু হয় তার নতুন লড়াই একদিন তার এই লড়াইয়ের কাহিনী ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। একজন ছাত্রী ইশার ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করে। ইসার দোকানের ভিড় বাড়তে শুরু করে তখন থেকেই। ইশা ক্যামেরার সামনে জানান এখন আমার দোকান বেশ ভালো চলছে পড়াশুনার সঙ্গে সঙ্গে এটাও করছি।