লন্ডনে গিয়ে সুরেলা কণ্ঠে গান গেয়ে স্টেজ কাঁপাল অরুনিতা পবন্দীপ জুটি, তুমুল ভাইরাল ভিডিও

বর্তমানে টেলিভিশনের পর্দা নানারকম রিয়্যালিটি শো-এ জমজমাট। নাচ-গান শারীরিক কসরত কি নেই সেই দৌড়ে। বিশেষ করে সংগীতের প্রতি চিরকালই মানুষের ভালোবাসা বেশি, তাই সংগীতের রিয়েলিটি শোয়ের সংখ্যাটিও বেশি। প্রায় প্রতি চ্যানেলেই সংগীতের রিয়েলিটি-শো হতে দেখা যায়।

এইসব রিয়েলিটি শোতে অত্যন্ত প্রতিভাবান শিল্পী দের পারফর্ম করতে দেখা যায়, যাদের পারফরম্যান্স সত্যি আমাদের মুগ্ধ করে। ভারতবর্ষের বিখ্যাত রিয়ালিটি শো গুলির মধ্যে “ইন্ডিয়ান আইডল” অন্যতম, এটি শুধু একটি রিয়েলিটি শো নয়, ইহা এক ঐতিহ্য।

বছরের পর বছর এই রিয়ালিটি শো থেকে আমরা অনেক বড় বড় শিল্পীদের পেয়েছি, আমরা মোনালি ঠাকুর, অন্তরা,নেহা কক্কর প্রভৃতি বড় বড় শিল্পীদের এই শো থেকে পেয়েছি। তাই শুধু এটি একটি শো বলা ভুল, ইহা ভারতবাসীর আবেগ। এই শোতে পারফর্ম করতে আসা শিল্পীদের পারফরম্যান্স আমাদের মুগ্ধ করেছে বারবার।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে “ইন্ডিয়ান আইডল ১২”, এই সত্যিই বিচারক হিসেবে রয়েছেন হিমেশ রেশমিয়া বিশাল দাদলানি প্রমুখ। শুধু তাই নয়, এই সাথে বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে উপস্থিত থাকেন বিশেষ বিশেষ বিচারক রা। একপর্যায়ে এক প্রতিযোগীর গানে মুগ্ধ হয়ে শো তে উপস্থিত বিচারক বাপি লাহিড়ী তাকে সোনার চেন উপহার দিয়েছিলেন।

এই মুহূর্তে ইন্ডিয়ান আইডলের সবথেকে চর্চিত প্রতিযোগী হলেন অরুনিতা কাঞ্জিলাল ও পবন দীপ। তাদের গানে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছেন জনতা। তার সুর আগুন লাগিয়ে দিয়েছে ইন্ডিয়ান আইডল মঞ্চে। সুরেলা কন্ঠ দর্শকদের আবেগ আপ্লুত করেছে বারবার। তাদের পারফরম্যান্স যেনো ঝড় তুলে দিয়েছে দর্শকদের মনে।

বাঙালি মেয়ে অরুনিতা বনগার মেয়ে। ১৭ বছরের অরুনিতা মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। সে জেভিয়ার্স স্কুলের ছাত্রী। ছোট থেকেই সে সঙ্গীতানুরাগী, তার বাবা একজন শাস্ত্রীয় সংগীতের শিক্ষক। ছোট থেকেই তার সংগীতের প্রতি অনুরাগ দেখে তার বাবা মা সর্বদা তাকে সমর্থন করতেন। ২০১৩ সালে জী বাংলা টিভি তে সারেগামাপা লিটল চ্যাম্পস এর বিজয়ী হয়েছিলেন।

শুধু তাই নয় একের পর এক অনুষ্ঠানে ডাক পেতেন তিনি। এই এত কম বয়সে তিনি হয়ে গেছেন অত্যন্ত বিখ্যাত। ২০২১ সালে তার পারফরম্যান্স ঝড় তুলে দিয়েছে ইন্ডিয়ান আইডলে। তাঁর উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স গুলির মধ্যে “কেহেনা হে কেয়া”, “সুন সাহিবা সুন”, “আয়েহ মেরে জিন্দেগি মেন” গানগুলি সকলের অত্যন্ত প্রিয়। তার পারফরম্যান্স দর্শকদের মন কেড়েছে বারবার।

পবনদীপ রঞ্জন উত্তরাখণ্ডের ছেলে। ছোট থেকেই বাবার হাতে তার সংগীতজগতে হাতে খড়ি। তার বাবা ছিলেন একজন লোক সংগীত গায়ক। পবন দ্বীপ 2015 সালে ভয়েস অফ ইন্ডিয়া তে নিজের ক্যারিয়ারের সূত্রপাত করেন। সেই শো থেকেই তার বিজয়ের শুরু। এরপর সিনেমায় গান এবং নিজের অ্যালবাম বের করেন তিনি।

ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চে তার গান সবাইকে মুগ্ধ করে দিয়েছে বারবার। এমনকি স্বয়ং বাপি লাহিড়ী তাকে সোনারহার দিয়ে সম্মান করেছেন। এমনকি ইন্ডিয়ান আইডলের বিজয়ের শিরোপাও উঠেছে তার মাথায়। সম্প্রতি দুজনকে দেখা গেল লন্ডনে পারফর্ম করতে। তাদের সাথে ছিলেন মোহাম্মদ ডেনিশ ও শায়ালি কমলে।

তারাও ইন্ডিয়ান আইডল টুয়েলভ এর প্রতিযোগী। চারজনে মিলে কাপিয়ে দিলেন লন্ডন। সকলের সামনে তারা পরিবেশন করলেন এ আর রহমানের “জয় হো” গানটি, সারা পৃথিবীতে বিখ্যাত এই গানটি “স্লামডগ মিলিওনেয়ার” ছবির অংশ। এই সিনেমাটিতে স্বয়ং এ আর-রহমান অস্কার জিতে ছিলেন।

গানটিকে সারা লন্ডনে দেখা গেল উন্মাদনা। সারা পৃথিবী জয় করা গানটি গেয়ে চারজনে মাতিয়ে দিলেন স্টেজ।ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ঝড়ের মত। সারা পৃথিবী জুড়ে বিখ্যাত হয়ে গেছে ভিডিওটি। হাজার হাজার মানুষ ভিডিওটি লাইক করেছে। তাদের প্রতিভা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে মঞ্চে। মুগ্ধ হয়ে গেছেন লন্ডন বাসী।

কমেন্ট বক্স ভরে গেছে অভিনন্দন ও প্রশংসায়। এই ভাবেই ভারতবর্ষের যুবক-যুবতীরা সারা পৃথিবীতে নিজেদের প্রতিভা ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের প্রতিভা মুগ্ধ করে দিয়েছে সারা বিশ্বকে। তারা যেন তাদের জীবনে ভাবেই এগিয়ে যেতে পারেন এই আশাই করি আমরা।