দলত্যাগ রুখতে কঠিন আইন আনতে চলছে কেন্দ্র! ইঙ্গিত মিলল স্পিকারের মন্তব্যে

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই দলত্যাগ বিরোধী আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দলবদল করেছেন এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এই আইনের সংশোধন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

কর্মসূচিতে না থাকলেও সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে এই সংক্রান্ত বিল আনা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা সেই জল্পনা উস্কে দিলেন সোমবার।

দল বদল করা ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন ওম বিড়লা। সোমবার সংসদের এক সাংবাদিক বৈঠক করেন ওম বিড়লা। সেখানে দল পরিবর্তন কারীদের জন্য আইন নিয়ে আসা কতটা যুক্তিগ্রাহ্য সে কথা জানান তিনি।

এরপর থেকেই জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে ওয়াকিবহাল মহলে। অনেকেই মনে করছেন এবার কেন্দ্রীয় সরকার দলবদলুদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইন আনতে চলেছে।

দলবদলু সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা জানিয়েছেন, দল পরিবর্তন করতে চান এমন ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

এই বিষয়ে যাতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় এর জন্য তিনি নিজেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন চালাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। এই সংক্রান্ত কোন আইন লাগু করা হলে তার সারা দেশের জন্যই কার্যকর করা হবে, একথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এদিন ওম বিড়লা জানান, “নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রক্রিয়া পালন হওয়া উচিত। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করব, যাতে তারা দলবদল সংক্রান্ত আইন সংশোধনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপির অন্দরমহলে এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেই লোকসভার স্পিকার বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরেছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিজেপি বিধায়ক মুকুল রায়ের তৃণমূল কংগ্রেস যোগদান এবং বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই বিজেপি নেতৃত্ব মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।

বিজেপির পরিষদীয় দল ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে যে, বিষয়টিকে তারা এত সহজে ছেড়ে দেবে না। সূত্রের খবর, এই বিষয় নিয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য রাজ্যের বিজেপির বিধায়করা দল বেঁধে দিল্লি আসার পরিকল্পনাও করে ফেলেছেন।