দেশের রাজস্বনীতিতে নাক গলানো উচিত নয় সুপ্রিম কোর্টের, এর থেকে বেশি ছাড় হবে না, হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের

করো’না পরিস্থিতি ও লকডাউনের কারণে ২ কোটি পর্যন্ত ঋণের জন্য মোরাটোরিয়ামের মেয়াদে ইএমআই এর উপর যে সুদ বাকি পড়ে রয়েছে তা আর গ্রাহকদের মিলাতে হবে না বলেই জানিয়েছিলেন মোদি সরকার। কেন্দ্র থেকেই নাকি সেই খরচ বহন করা হবে। কিন্তু কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে আশাব্যঞ্জক নয় বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের আরো ভাবনা চিন্তা করা উচিত বলে মনে করে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যের ভিত্তিতে কেন্দ্র জানিয়েছে,”বিভিন্ন সেক্টরে এর থেকে বেশি ছাড় দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।” কেন্দ্রীয় সরকারের আরও দাবি, দেশের রাজস্ব নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের নাক গলানো অনৈতিক।

কেন্দ্রের পক্ষ থেকে হলফনামায় বলা হয়েছে,”রাজস্ব নীতি নির্ধারণ করা কেন্দ্রের দায়িত্ব। কোনও আদালতের উচিত নয় কোন ক্ষেত্রকে কী ছাড় দেওয়া হবে সেই বিষয়ে নাক গলানো। ২ কোটি পর্যন্ত ঋণের জন্য মোরাটোরিয়ামের মেয়াদে ইএমআই-এর উপর যে সুদ বকেয়া হয়েছে তাতে ছাড় দেওয়া ছাড়া এই মুহূর্তে আর ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।

নইলে তা দেশের জাতীয় অর্থনীতি ও ব্যাঙ্কিং পরিষেবার উপর প্রভাব ফেলবে।” ব্যাঙ্কগুলির অবস্থানের ভিত্তিতে বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা করা হয়েছিল তার শুনানির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে,”কেন্দ্র আবেদনকারীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে।”

এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,রিয়েল এস্টেট ও পাওয়ার ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সমস্যা নিয়ে এবং তাদের ছাড়ের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কি ভাবনা চিন্তা রয়েছে তা নিয়ে নতুন করে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে। তার জবাবে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়,”এভাবে পিটিশন দায়ের করে আলাদা আলাদা সেক্টরের জন্য ছাড়ের দাবি করা যায় না। এর থেকে বেশি ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।”

ক’রোনা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া  তীব্র অর্থনৈতিক সংকট শুরু হওয়ায় নির্দিষ্ট মেয়াদের ঋণের উপর মোরাটোরিয়াম ঘোষণা করেছিল।

মোরাটোরিয়ামের মেয়াদ আরও তিন মাস বৃদ্ধি করার পাশাপাশি কোনও গ্রাহক চাইলে তিন মাস ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা স্থগিত রাখতে পারেন উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের জানায়, কিস্তির টাকা দেওয়া বন্ধ করলে বকেয়া আসল ও সুদ উভয়ের উপরেই ওই মেয়াদের জন্য সুদ দিতে হবে।

ব্যাংক গুলির অবস্থান এর বিরোধিতা কে কেন্দ্র করে আবারো মামলা দায়ের করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সরকারের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা থাকলেও সুপ্রিম কোর্টের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে আরও সাত দিনের সময় দেয়। বিচারপতিরা বলেন, করোনাকালে গ্রাহকদের আদৌ কোনো সুরাহা প্রদান করা যায় কিনা সেই নিয়ে সাতদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কেন্দ্রকে।

তারপরেই কেন্দ্র পক্ষ থেকে হলফনামা প্রকাশ করে বলা হয়, বর্তমানে মহামারীর পরিস্থিতিতে সুরাহার পথ একটাই। সরকার যদি সেই অর্থ বহন করে তবেই সব দিকে বাঁচানো যাবে। সুদের ওপর সামগ্রিক সুদের পরিমাণ ৬ লক্ষ্য কোটি টাকা। সেই পরিমাণ অর্থ যদি ব্যাংক বহন করে তবে নেট ওয়ার্থের বড় অংশ বিপন্ন হবে। ঘুরিয়ে সেই সাধারণ মানুষের ক্ষতি হবে। ২ কোটি টাকা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট মেয়াদের ঋণের বকেয়া সুদের উপর সুদের টাকা সরকারই দেবে। যদিও কেন্দ্রের বক্তব্যের সন্তুষ্ট নয় সুপ্রিম কোর্ট। ১৩ অক্টোবর আবারও এই মামলার শুনানি রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here