“দয়া করে ওই নামটা মুখে নেবেন না”, বিহারের ভোটে মোদীর নাম মুখে আনতেই নারাজ পরিযায়ী শ্রমিকরা

বৈশালির কুদনি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির পক্ষ থেকে ভোটে দাঁড়িয়েছেন কেদারপ্রসাদ গুপ্ত এবং আরজেডি-র প্রার্থী পিছিয়ে থাকা শ্রেণির অনিল সাহানি। কিন্তু সেখানকার ভোটাররা বিহারের নীতীশ কুমার সরকারের প্রতি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম মুখেও আনতে চান না তারা।

ওই এলাকার বেশিরভাগ মানুষই কাজের খোঁজে দিল্লি, হরিয়ানা, মুম্বাইয়ে যান। অর্থাৎ বেশিরভাগই পরিযায়ী শ্রমিক। ছট পুজোর সময় ফিরে আসেন। কিন্তু এবার লকডাউন এর জেরে তছনছ হয়ে যায় পরিযায়ী শ্রমিক দের জীবন। ছন্নছাড়া হয়ে ফিরে আসতে হয় তাদের।

কথায় কথায় প্রধানমন্ত্রীর নাম উঠে আসায় হঠাৎ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এত ক্ষোভ কিসের? বছর পঁচিশের পরিযায়ী শ্রমিক জীতেন জানান,”নরেন্দ্র মোদীর জন্যই তো আজ আমাদের এই অবস্থা। এক ঘোষণায় সব বন্ধ করে দিলেন। কারও কথা ভাবলেন না। কাজ ছেড়ে এক কাপড়ে ফিরে আসতে হল।

আসার সময়ে হাঙ্গামা-হুজ্জুতি যা হয়েছে, তা তো আলাদা। মজদুরি ছেড়ে চার-পাঁচ মাস গ্রামে পড়ে রয়েছি। ফিরে যাওয়ার টাকাটাও নেই। একদম ওই নাম মুখে আনবেন না। শুনলেই গা-পিত্তি জ্বলে যায়।” হরিয়ানায় কাজ করতেন তিনি।

দিল্লিতে যারা পরিযায়ী শ্রমিক কাজে যেতেন,সেখানকার সরকার এর সাহায্যে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে করে বাড়ি ফিরলেও অন্যান্যদের অবস্থা খুবই করুন। গ্রামে পরিবার-পরিজনদের কাছে ফিরতে পরিযায়ী শ্রমিক দের চরম দূর্দশার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

পাঞ্জাবে ক্ষেতমজুর হিসেবে কাজ করতে যাওয়া এক ব্যক্তি বলেন,লকডাউনে বাড়ি ফেরার জন্য বিহারের প্রায় ষাট জন শ্রমিকের একটি দলের সঙ্গে মিলে ট্রাক ভাড়া করতে হয়েছে। লক্ষ টাকা দিয়ে ভাড়া করা ট্রাক বারাণসীতে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। দেড় দিন ধরে হেঁটে তবে বাড়ি ফিরতে হয়।

অন্য আরেকজন পরিযায়ী শ্রমিক বলেন,”ভেবেছিলাম রাজ্যে ঢুকতে পারলে নিশ্চিন্ত। কিন্তু সরকার প্রথমে ঢুকতেই দেয়নি। খাবার-জল ছাড়া খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাতে হয় আমাদের”। এছাড়া পরিযায়ী শ্রমিক দের এক হাজার টাকা করে দেয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সেই টাকা কে পেয়েছে কিভাবে খরচ হয়েছে কেউ জানে না।

রেশনের কথা বলতে গেলে বৈশালীর এক বৃদ্ধ বলেন,”নেতারা কি জানেন, আমরা কতটা খারাপ চাল পেয়েছি? অধিকাংশ চাল শেষে গো-চারা হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। আর শুধু চাল-গম দিলে হবে! নগদ টাকার জোগান না-থাকলে বাকি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনব কী করে! প্রধানমন্ত্রীর বোঝা উচিত, থালা-বাটি বাজালে আর মোমবাতি জ্বালালে পেটের আগুন নেভে না।” একের পর এক উদাহরণ দেখলেই বোঝা যায় সরকারের উপর কিভাবে ক্ষুব্দ হয়ে রয়েছে বিহারের পরিযায়ী শ্রমিকরা।

পরিযায়ীদের জন্য বিকল্প আর্থিক সংস্থান না করতে পারা নিয়ে পরিযায়ীদের মনে যে ক্ষোভ রয়েছে তাতে ঘি ঢালার কাজ করছে এলজেপি নেতা চিরাগ পাসোয়ান-সহ অন্য বিরোধীরা। তাদের নেতৃত্বে পরিযায়ী শ্রমিকরা গেরুয়া শিবির কে পাল্টা শিক্ষা দিতেও প্রস্তুত হচ্ছেন। দলের মুখপাত্র অজয় অলোক স্বীকার করেছেন,”এত ক্ষোভ জমে রয়েছে, বোঝা যায়নি”।

বিজেপি নেতা তথা উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদি শিক্ষিত, বেকার ও পরিযায়ীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবুও প্রশ্ন উঠছে, নীতিশ কুমার এবং সুশীল মোদি জুটি তাহলে এতদিন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ কেন?