“মোদি দশ লাখি সুটই পরেন না, মানুষকে ১৫ লক্ষ টাকার টুপিও পরান”, কটাক্ষ লাভলী মৈত্রের

গত ফেব্রুয়ারি মাসের তৃণমূল ভবনে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছেন অভিনেত্রী লাভলী মৈত্র। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মার্চ মাসে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতেই দেখা গেল লাভলী মৈত্রের নাম।

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন লাভলী মৈত্র। শাসক শিবিরের এই নেত্রী এবার শেষ পর্বের প্র’চারে ব্যস্ত।

ছোট পর্দার অভিনেত্রী হয় বেশিরভাগ সময়টা অভিনয়ে ব্যস্ত থাকলেও প্রচারে এবার জোর কদমে নেমে পড়েছেন লাভলী মৈত্র। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কেন মানুষ লাভলী মৈত্রকে ভো’-ট দেবেন?

এ প্রসঙ্গে তার স্পষ্ট জবাব, “সেভাবেই নিজের বি’শ্বাসযো’গ্যতা অর্জন করতে হবে। মানুষের মনে ভরসা জোগাতে হবে। কাজের জায়গা যেমন সামলাব, তেমনই এখানকার মানুষজন যদি আমায় নির্বাচিত করেন, তাহলে তাঁদের প্রতিও আমার দায়িত্ব পালন করব।”

টেলিভিশনের পর্দা থেকে সরাসরি রাজ’নীতির ময়দানে পা রেখেছেন লাভলী মৈত্র। এই দীর্ঘ যাত্রাপথ কেমন সে প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “আগে আমাকে মানুষজন টিভিতে দেখে চিনেছেন আর এখন ঘরের সামনে আমাকে দেখছেন।

খুবই অভি’ভূত আমি সকলের ভালবাসা পেয়ে। অনেকেই জড়িয়ে ধরে বলছেন, ‘অভি’নয় ভাল লাগে, ওটা কিন্তু চালিয়ে যেতে হবে। আরও বেশি করে দেখতে চাই।’ দুটো জায়গার অভি’জ্ঞতা দু’রকমের।”

বিজেপিকে কেন ভো’-ট দেওয়া উচিত নয়, এই প্রশ্নের উত্তরে লাভলী মৈত্র জানান, “খুবই সহজ উত্তর। বিজেপিকে ভোট দিলে মানুষ ঠ’ক’বেন। শুনছি নাকি আমাদের প্রধানমন্ত্রী দশ লক্ষ টাকার স্যু’ট পরেন। কিন্তু তিনি একাই শুধু পরেন না, তিনি মানুষকে ১৫ লক্ষ টাকার টু’পিও পরান।

প্রতিশ্রুতি যা দেন, তা পালন করেন না। এই তো গত লোকসভা ভোটে প্রচুর প্রতিশ্রুতি দিলেন ওদের প্রার্থীরা। মানুষও বিশ্বাস করে ১৮টি আসনে তাঁদের নি’র্বা’চিত করলেন। কিন্তু তারপর আর দেখা যায়নি তাঁদের। ফলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া আর রাখা থেকে বহু দূরে বিজেপি। সেটা একমাত্র করে তৃণমূল সরকার।”

এরপর লাভলী মৈত্র বলেন, “এছাড়া বিজেপি মহিলাদের স’ম্মা’ন করতে পারে না। দেখুন না, আমাকেই ‘অমুকের স্ত্রী’ বলে বারবার চি’হ্নিত করছে।

আসলে ওরা মেয়েদের আলাদা পরিচিতি তৈরি হোক, সেটাই চায় না। মা-বোনেদের স’ম্মা’ন যাঁরা করতে পারেন না, তাঁদের ভো’-ট দেওয়ার অর্থ নেই বলেই মনে করি।” সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন আরেক টেলি অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু।

সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে এবারে দুই অভিনেত্রীর জোর ট’ক্ক’র। এ প্রসঙ্গে বলেন, “ওঁর সঙ্গে আমার আলাপও নেই, ল’-ড়া’ইও নেই। উনি ওঁর মতো করে ল’ড়া’ই করবেন, আমি আমারটা করব। এমনিতে কাজ কখনও একসঙ্গে করিনি। মাঝে মধ্যে দেখা হয়েছে।

তাই কোনও ব’ন্ধু’ত্ব বা ঘনিষ্ঠতা নেই। তবে একটা কথা, মানুষ কিন্তু তারকা পরিচিতি দেখে ভো’-ট দেবেন না। সেখানে মানুষের পাশে থাকার আস্থা অর্জন করতে হবে। তাঁদের জন্য কাজ করতে হবে।” রাজনীতির মঞ্চে লাভলী মৈত্র নতুন হলেও, জেতার বিষয়ে তিনি য’থেষ্ট আ’শাবাদী।