অভাবের তাড়নায় ক্যারাটে ছেড়ে হাড়িয়া বিক্রি! অসহায় যুবতীর করুন কাহিনী ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়

অভাব-অনটনের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাতে গিয়ে নিজের স্বপ্ন গুলোকে বিসর্জন দিয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা এ পৃথিবীতে কম নয়। অভাবের তাড়নায় স্বপ্নকে বিসর্জন দিয়ে পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে আকাঙ্ক্ষিত পেশা ছেড়ে অনাকাঙ্ক্ষিত জীবনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়।

আজকাল ফেসবুক টুইটার থেকে শুরু করে দৈনিক পত্র পত্রিকা খুললেই এই রকম ঘটনা প্রায় প্রত্যেক দিন সামনে আসে। এমনই এক মেয়ের করুন কাহিনী আবারো ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, একটি মেয়ে তার জীবনের অর্জিত সমস্ত মেডেল একদিকে সাজিয়ে রেখেছে, অন্যদিকে সে আবার হাড়িয়া তৈরিতে ব্যস্ত। এই ভিডিও দেখে আবেগে ভাসছে নেট জনতা।

মেয়েটির নাম বিমলা মুন্ডা। তিনি রাঁচির এক প্রতিভাবান ক্যারাটে খেলোয়াড়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও টি তারই। তাকেই দেখা গিয়েছে একদিকে জীবনে অর্জিত সকল মেডেল সাজিয়ে রাখতে। আবার অন্যদিকে হাড়িয়া তৈরি করছে সে। ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচির কাঁকেতে সে বসবাস করে। ক্যারাটে তে ব্ল্যাকবেল্ট সহ জাতীয় স্বর্ণপদকও অর্জন করেছে মেয়েটি।

স্বপ্নপূরণের ইচ্ছা ছেড়ে ভিন্ন পথে উপার্জনের রাস্তা বেছে নিয়েছে বিমলা। নেপথ্যে সেই একই কারণ,অভাব। তাঁর পরিবার চরম দূর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। সেই কারণেই  উপার্জনের জন্য বেছে নিতে বাধ্য হয় হাড়িয়া তৈরির কাজ। তাঁর বাবা শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং মা অন্য কাজ করেন।

ইতিমধ্যেই তার খেলার প্র্যাকটিস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অর্থাভাব এর কারণে ইচ্ছা পূরণের পথে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে না। তাঁকে এই খেলা শেখানোর জন্য তারা অনেক পরিশ্রম করেছেন বলে জানান বিমলার মা।

২০০৮ সাল থেকে টুর্নামেন্টে খেলছেন বিমলা মুন্ডা। চলতি বছরে জেলা থেকে পদক জিতেছেন তিনি। ২০০৯ সালে উড়িষ্যার পদক জিতেছেন বিমলা। ৩৪ তম ন্যাশানাল গেমসে রৌপ্যপদক এবং অক্ষয় কুমার আন্তর্জাতিক ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপে ২ টি সোনার পদক জিতে নিয়ে রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করেছেন তিনি।

কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি তাদের জীবন ধারণ কে কোন রকমে এগিয়ে নিয়ে যেতে ভিন্ন পথে অর্থ উপার্জনের জন্য পরিচালিত করেছে। এমন পরিস্থিতির কথা নিজেই নিজের মুখে স্বীকার করে নিয়েছেন বিমলা। বর্ণনা করেছেন, নিজের বর্তমান জীবনযাপন সম্পর্কে।

তিনি বলেন,”আমাদের সরকার কোন খেলোয়াড়দের প্রতিই নজর দেয়নি। তা সে যে খেলাই হোক না কেন। আমরা কোনকিছুতে কর্ণপাত না করে, শুধু খেলার প্রতিই মনোনিবেশ করেছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম খেলার মধ্যে আছি, তাহলে হয়ত সরকারী চাকরি পেয়ে যাব। কিন্তু তাঁর কোন খবরও এখনও পেলাম না। তাই এখন অর্থাভাবের সংসার চালাতে হাড়িয়া বিক্রির পথ বেছে নিয়েছি।”