লাল শাড়ি পরে দুর্দান্ত কায়দায় নেচে সকলকে তাক লাগাল দুই যুবতী, তুমুল ভাইরাল ভিডিও

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সবকিছুই হয় ভাইরাল। বিশেষ করে ক-রো”না কালে আমরা শিখেছি কিভাবে অনলাইন মিডিয়াকে ব্যবহার করতে হয়। ক-রো”না কালে লকডাউন এর সময় সমস্ত স্কুল-কলেজ অফিস সবই ছিল বন্ধ,

সেই সময় আমরা সবাই শুরু করেছিলাম ‘work-from-home”, অর্থাৎ অনলাইন মাধ্যমে বাড়ি থেকে কাজ।এইভাবেও অনলাইন মাধ্যম এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল সারা পৃথিবীতে। এমনকি স্কুল কলেজেও অনলাইন ক্লাস চলছে, এইভাবে সোশ্যাল মিডিয়া অনলাইন মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে যোগাযোগব্যবস্থা বজায় রেখেছে।

বর্তমানে এই সোশ্যাল মিডিয়াতে কাজে লাগিয়েই শিল্পীরা তাদের প্রতিভাকে তুলে ধরছেন পৃথিবীর সামনে। প্রতিভা প্রদর্শনের এই দৌড়ে আট থেকে আশি সবাই রয়েছেন এগিয়ে। কিন্তু সব সময় ছোট দের প্রতিভা গুলি আমাদের বেশি চোখে পড়ে কারণ বর্তমান যুগের ছোটরা অনেক এগিয়ে। তাদের প্রতিভা গুলি দেখে সত্যিই আমরা অবাক হয়ে যাই।

এক্ষেত্রে বিশেষ করে যেসব মানুষরা সুযোগের অভাবে তাদের প্রতিভা প্রদর্শন করার কোন সুযোগ পেতেন না, তারা সোশ্যাল মিডিয়াকে তাদের প্রতিভা প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে। মিডিয়ার শক্তির সব থেকে বড় উদাহরণ হল রানু মন্ডল।

ভবঘুরে হিসেবে ভিখারিদের সঙ্গে জীবনযাপন করতেন তিনি, এইসময় ভাইরাল হয়ে যায় তার গলায় গাওয়া একটি ভিডিও “এক পেয়ার কা নাগমা হে”। ছাড়া ভারতবর্ষজুড়ে ভাইরাল হয়েছে এই ভিডিও, এর পরে আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

এরকম আরও উদাহরণ হলেন চাঁদমণি বিপাশা দাস প্রভৃতি। বর্তমানে এই কাজে এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ গুলিও। তারা তাদের পেজের মাধ্যমে অনেক প্রতিভা কে নিয়ে এসেছে বিশ্বের সামনে।

তবে শুধু ফেসবুক পেজ নয়, বর্তমানে স্ন্যাপ ভিডিও, টিকটক প্রভৃতি নানা অ্যাপ এর মাধ্যমে মানুষ তার ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে, যা হয়ে যায় তুমুল ভাইরাল। এই ভিডিও গুলোর মধ্যে যেমন শিক্ষামূলক নাচ-গান প্রভৃতির ভিডিও থাকে, তেমনি থাকে দারুণ মজার মজার ভিডিও।

তবে এইসব স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওগুলি তৈরীর ক্ষেত্রে মজার ভিডিও থাকার সংখ্যাটাই বেশি।বর্তমানে সমস্ত মানুষ বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা এবং যুবক-যুবতীরা এইসব অ্যাপ ইউজ করে নিজেদের ভিডিও তৈরি করে ভাইরাল হয়। এইভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষ আজ তার প্রতিভাকে সারা বিশ্বের সামনে প্রদর্শন করতে পারছেন।

নাচ-গান শারীরিক কসরত হাস্যকৌতুক কি নেই সেখানে,এমনকি পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া নানা অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হয়েছি আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। এমনকি ছোট্ট ছোট্ট ছেলে মেয়েদের পারফর্মেন্স মুগ্ধ করে আমাদের সবসময়। কিছুদিন আগে একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছিল, কোন একটি জায়গায় সম্ভবত অনেক মানুষ নিয়ে একটি অনুষ্ঠান চলছে।

এবং সেখানে সঞ্চালক “সুভা” নামে একটি মেয়ের পারফরম্যান্সের কথা ঘোষণা করছেন, যাকে তিনি “ছোটা প্যাকেট বড়া ধামাকা” বলে উল্লেখ করেছেন। সুভাকে দেখে মনে হয় সে ৮-৯ বছরের একটি মেয়ে,প্রথমে ধীরে ধীরে শুরু করলেও পরে পরে তার নাচের এনার্জি বাড়তে থাকে।

একসাথে তিন চারটি বলিউডি গানে পারফর্ম করতে শুরু করে সে। এতক্ষণ পারফর্ম করেও তার মধ্যে দেখা যাচ্ছিল না কোন ক্লান্তি,তার এই অদ্ভুত এনার্জি থেকে মুগ্ধ হয়ে গেছিলেন দর্শক। ছোট্ট এই মেয়েটির পারফরম্যান্স মুগ্ধ করে দিয়েছে সবাইকে।

এইভাবে সোশ্যাল মিডিয়াতে কাজে লাগিয়ে বহু শিল্পী তাদের প্রতিভাকে বিশ্বের সামনে আনতে সমর্থ হয়েছেন। এ রকমই দুই নৃত্য শিল্পী হলেন সঞ্চয়িতা এবং বর্ণালী। তাদের নৃত্য দর্শকরা অত্যন্ত পছন্দ করেন। তাদের প্রতিভা দর্শকদের মুগ্ধ করে বারবার। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই তাদের ভিডিও ভাইরাল হতে দেখা যায়।

“বেটা” সিনেমাটি রেট্রো যুগের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় সিনেমা। এই সিনেমার একটি বিখ্যাত গান হলো “ধক ধক করনে লাগা”। এই গানটিতে অনিল কাপুরের সঙ্গে মাধুরী দীক্ষিতের পারফরম্যান্স কাঁপিয়ে দিয়েছিল গোটা ভারত বর্ষ। গানটি গেয়েছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী উদিত নারায়ণ ও অনুরাধা পাড়োয়াল।

সেই গানটিতেই সম্পূর্ণ নিজেদের মতো পারফর্ম করে কাপিয়ে দিলেন সোশ্যাল মিডিয়া সঞ্চয়িতা ও বর্ণালী। নাচটিতে ডাইরেকশন অফ ইডিট করেছেন সুকান্ত রায় এবং টিম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে রয়েছেন সুমন রয়। সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্ব রয়েছে “বাগি”। দুই তরুনীর পরনে রয়েছে গোলাপি রঙের শাড়ি ও ব্লাউজ।

এলোচুলে প্রকৃতির মাঝে তাদের পারফরম্যান্স কাঁপিয়ে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। গানের তালে তালে তাদের নিখুঁত পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে দর্শকদের। তাদের রূপ ও সৌন্দর্য যেন তাদের প্রতিভার সাথে একাত্ম হয়ে গেছে। দুই তরুনীর পারফরম্যান্স আগুন লাগিয়ে দিয়েছে সকলের মনে।

ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে তাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে। হাজার হাজার মানুষ ভিডিওটি লাইক করেছে। দুই তরুণীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সকলে। তাদের অদ্ভুত সুন্দর নাচ মন ছুঁয়ে গেছে সকলের। তাদের এরকম নাচ আবার দেখতে চান বলে অনুরোধ জানিয়েছে অনেকেই। দুই তরুণী যেন তাদের জীবনে এভাবেই এগিয়ে যায় এই আশাই করি আমরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই এরকম সুন্দর সুন্দর ভিডিও ভাইরাল হয়। এমনকি পৃথিবীর কোনায় কোনায় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অদ্ভুত ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। সোশ্যাল মিডিয়া সারা পৃথিবী কে রেখেছে সচল। সোশ্যাল মিডিয়াকে কুর্নিশ জানাই তার এই প্রচেষ্টার জন্য।