‘স্বামীর সম্পত্তি নয় স্ত্রী যে জোর করে একসঙ্গে থাকতে বাধ্য করবেন’, রায় জনাল সুপ্রিম কোর্ট

স্ত্রী কোনও পুরুষের সম্পত্তি কিংবা দা’সী নন। সেই কারণেই যেখানে খুশি থাকতে বাধ্য করা যাবে না তাঁকে। এক মা’ম’লার শুনানিতে এক ব্যক্তিকে মঙ্গলবার এমনটা জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আ’দালত।

সুপ্রিম কো’র্টের তিন বিচা’র’পতির বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে জানিয়েছেন, বৈ’বা’হিক সম্পর্কে কোন মহিলাকে জোর করে আ’বদ্ধ করে রাখা যায় না। তাই সেক্ষেত্রে, তিনি যদি অন্যত্র থাকতে চান তাতে স্বামীর বাধা দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।

২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে, উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের পারিবারিক আদা’লতে হিন্দু বিবাহ আইনের ৯ নং ধারায় ওই ব্যক্তির পক্ষে পাশ হওয়া বিবাহব’ন্ধনের অধিকার পুনরুদ্ধারের রায়ের বিরু’দ্ধে সুপ্রিম কোর্টে এই মা’ম’লা দায়ের হয়েছিল।

আ’দালতে মহিলা অভি’যোগ করেছিলেন, বিবাহের পর থেকেই তিনি নি-র্যা’-ত-নের শিকার। তাঁর স্বামী বাপের বাড়ি থেকে পণ্য আনার জন্য অকথ্য অ-‘ত্যা-চা-র করতেন। সেই কারণেই সংসার ছাড়তে বাধ্য হন স্ত্রী।

২০১৫ সালে ওই মহিলা খোরপোশের মা’ম’লা করে বসেন। গোরক্ষপুরের আ’দালত প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দেয় ওই অ’ভি’যুক্ত ব্যক্তিকে।

গোরক্ষখপুর আদা’লতের নির্দেশের পর, ওই ব্যক্তি পারিবারিক আদালতে বিবাহবন্ধনের অধিকার পুন’রুদ্ধারের আবেদন করেন।

সেখানে তিনি জানান, স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করতে রাজি। স্ত্রী তাঁর নিজের ইচ্ছায় আলাদা থাকলে তাঁর কিছু করার নেই। তাই খোরপোশের ভার থেকে মুক্তি চান তিনি।

এরপর ওই ব্যক্তি এলাহাবাদ হাইকোর্টে খোরপোশের ভার মুকুবের দাবি জানিয়ে পি’টি’শন দাখিল করেন। তাঁর আর্জি খা’রিজ করে দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এরপর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।

ওই মহিলার স্বামী খোরপোশের টাকা বাঁচাতে এইরকম ফন্দি এঁটেছেন বলে অ’ভি”যোগ করেন মহিলা আইনজীবী। সুপ্রিমকো’র্টের কাছে ওই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ফিরে আসতে বলার নির্দেশ দিতে বলে আবেদন জানান। এরপর সর্বোচ্চ রায় দেয় আদালত।

বিচারপতি সঞ্জয় কিশন কাউল এবং বিচারপতি হেমন্ত গুপ্তের এসসি বেঞ্চ ওই ব্যক্তির আর্জি খা’রিজ করে দেন। প্রত্যুত্তরে তাঁরা বলেন, “আপনি কী ভাবেন বলুন তো? একজন মহিলা কোনও সম্প’ত্তি বা দা’সী নাকি যে আমরা তাঁকে বলব যে যান স্বামীর সঙ্গে গিয়ে বাস করুন।”