ক্ষুধার্ত-তৃষ্ণার্ত হাতি শিশুর প্রাণ বাঁচালো ট্রাক ড্রাইভার, ভিডিও ভাইরাল হতেই নেটদুনিয়ায় মানবতার জয়জয়কার

হাতি ও মানুষের সংঘাত পুরোনো। লোকালয়ে ঢুকে হাতির গ্রাম উজার করে দেওয়ার ব্যাপারটিও নতুন কিছু নয়। হাতিকে পিটিয়ে মারা কিংবা,

পটকা‌ওয়ালা ফল খাইয়ে মেরে ফেলার মতো দৃষ্টান্ত রয়েছে আমাদের কাছে। তবে সেসব পূর্ণবয়স্ক হাতির। ছোট্ট বাবু হাতি দেখলেই আমরা যেন,

কেমন মিইয়ে পড়ি। তাঁদের মায়া মায়া চোখ আর গোলগাল গরন আমাদের চোখে খুব‌ই দৃষ্টিনন্দন ঠেকে।সেইজন্যেই তো,

একবার হাতির বাচ্চা আখ খেত ধ্বংশ করে ভয়ে ভয়ে লুকিয়েছিল একটা লাইটের পোলের পিছনে। হাতির বাচ্চাটির বোধ ছিল না যে লাইটের পোল তাঁর শরীর ঢাকতে অক্ষম। ক্ষেতের মালিকের মাথায় রাগ চেপে থাকলেও এই কান্ড দেখে হেসে ফেলেন এবং কোনো শাস্তি না দিয়েই ছেড়ে দেন। এমন ঘটনাও বিরল নয়। অনেকসময় হাতির বাচ্চারা লোকালয়ে চলে আসে। কিন্তু ফেরার সময় জঙ্গলের পথ খুঁজে না পেয়ে ফিরতে পারে না। ক্ষুধা তৃষ্ণায় হন্যে হয়ে যায়। এবার যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটাও খানিকটা এমন‌ই।

দক্ষিণ আফ্রিকার ঘটনা। একটি হাতির বাচ্চা ক্ষুধা তৃষ্ণা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তখন‌ই সে দেখতে পায় ঈশ্বরের দূতকে। ভাঙা ব্রিজের পাশে ঝোপের পাশে নেতিয়ে পড়েছিল তাঁরা। জোহানেসবার্গে AfriAg পরিবহন কোম্পানির কিছু ট্রাক চালক সেই পথে যাওয়ার সময় দেখতে পান। সেখানেই নেমে তাঁরা বোতল থেকে জল খাওয়ান বাবু হাতিটিকে। সঠিক সময়ে জল পেয়ে সে ও চাঙ্গা হয়ে ওঠে। এরপর বাচ্চাটিকে ট্রাকে তুলে নিকটবর্তী অভয়ারণ্য এলাকায় ছেড়ে আসেন তাঁরা। আশা করা যায়, সে ওখানে বাকি সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে ভালোই আছে। মানবিকতার এই অভূতপূর্ব নিদর্শন থেকে সকলের‌ই কিছু না কিছু শেখা উচিত। এই ভিডিওটি নেটপাড়ায় বেশ ভাইরাল হয়েছে। হাতির কার্যত প্রাণরক্ষক ঐ ট্রাকড্রাইভারকে কুর্নিশ র‌ইল।