দিল্লিতে প্রতিবাদী কৃষকদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন মুসলিম যুবকেরা

মোদি সরকার প্রবর্তীত নতুন কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে দিল্লিতে কৃষকরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন। এই কৃষিবিলের জন্য পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ গোটা দেশের কৃষকদের বি’ক্ষোভে উত্তাল।

যে দেশে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ সাধারণ সেদেশে কৃষকদের আন্দোলনের কৃষকদের জন্য ৫ জন মুসলিম যুবকদের একটি দল দায়িত্ব নিয়েছে আন্দোলনরত কৃষকদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য। সিঙ্ঘু সীমানায় গত বুধবার থেকেই এই লংগর খানা শুরু হয়েছে ।

জানা গিয়েছে, প্রতিনিধি বা মুসলিম ফেডারেশন অফ পাঞ্জাব’ নামের সংগঠনের নেতারা এই স্টেপটি নিয়েছেন। অবশ্য কৃষকদের নেতারা সরকারের ব্যবস্থা করা খাবার খায় নি।

পাঞ্জাবের মালেরকোটলা থেকে আসা দলটির নেতা ফারুকি মুবিন জানিয়েছেন, ‘যাঁরা সকলের খাবারের জোগান দেন, সেই কৃষকরা যাতে অভুক্ত না থাকেন তার জন্য সারাদিনই এই লঙ্গর খোলা থাকবে যতদিন প্রতিবাদ চলবে।

কৃষকেরা আমাদের জন্য বহু কিছু করেন কিন্তু এবার সময় এসেছে তাঁদের তা ফিরিয়ে দেওয়ার। ওঁদের দেখভাল করাটাও আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমরা ভাগ্যবানই হয়েছি। আমরা আমাদের কৃষক ভাইদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন।’’

এদিকে, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ সংলগ্ন দিল্লি সীমানায় পথ আটকে রয়েছে হাজার হাজার প্রতিবাদী কৃষকরা জমায়েত হয়েছে। গত ১০ দিন ধরে টানা চলছে তাদের প্রতিবাদ , সরকার তাদের কথা মেনে নিলে করতেই হতো না।

সম্প্রতি সরকার তাদের সামনে সম্মেলনে কথা বলেন, বৃহস্পতিবার প্রতিবাদী কৃষকদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বৈঠক হয় যদিও সেই বৈঠক খুব বেশি ফলপ্রসূ হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। দিন দিন কৃষক আন্দোলনের আঁচ বাড়ছে আর চাপ ও বাড়ছে কেন্দ্রের উপরে ।

নিজেদের দাবিতে কৃষকরা অনড়, কৃষি বিল প্রত্যাহার করতেই হবে অন্যদিযে সরকার অনড় বিল প্রত্যাহার হবে না। দিল্লি-হরিয়ানা সীমানায় বিক্ষোভ দেখা যেতে কৃষকদের দাবির সমাধান খুঁজতে আজ পঞ্চম দফায় কৃষকদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা।

‘ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন’-এর নেতা রাকেশ তিকাই আশাপ্রকাশ করেছেন, ‘সরকারের সঙ্গে কৃষকদের আলোচনায় শনিবার কোনও সমাধানের দিশা মিলছে না। এখন একথা সত্যিই যে দু দলের কেউ এডজাস্ট নাও করতে পারে। তবে এই মানবিক ছবি বুঝিয়ে দিচ্ছে, কৃষক স্বার্থ আসলে সকলের স্বার্থ, দেশের প্রাণ আসলে কৃষিজমিতেই।’