“৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছি, অন্য রাজ্যে সরকার গড়তে পারতাম”, বললেন দিলীপ ঘোষ

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে বিজেপির নেতা কর্মীরা ঘরে দ-মবন্ধ পরিবেশে রয়েছে। এবার সেই দ-মব-ন্ধ পরিবেশ কাটিয়ে তুলতে

স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় অবতীর্ণ হলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বিধানসভায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে দম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।

রবিবার বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এখন বিধানসভায় ৭৫টা আমাদের আমাদের আছে। বিধানসভায় দম বন্ধ করে দেব।

আর বাইরেও আন্দোলন করব মানুষের কষ্ট নিয়ে। যে ভাবে অত্যাচার, লুটপাট শুরু হয়েছে, সাধারণ মানুষ খুব ভয়ের মধ্যে আছে”।

এরপরেই তাঁর দাবি, “আমাদের দল ঠিকই আছে। ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছি আমরা। অন্য রাজ্যে এই ভোটে আমরা সরকার গঠন করে ফেলতাম”।

তবে কোন সমীকরণে ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়ে অন্য রাজ্য সরকার গড়তেন, সে সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেননি দিলীপ ঘোষ।

দিলীপ ঘনিষ্ঠ রাজ্য বিজেপির একটা নেতা জানিয়েছেন, “বাংলায় দ্বিমুখী লড়াই হওয়ার কারণেই যে বিজেপি ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েও কিছু করতে পারেনি, সেটাই উনি বলতে চেয়েছেন”। দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে চুপ করে নেই তৃণমূল।

অন্যদিকে দিলীপ ঘোষের হুঁশিয়ারিকে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেতা তাপস রায় জানান, “বিজেপির শাসনে গোটা দেশেরই দম বন্ধ হয়ে আসছে। আসলে এ সব কথা বলে দিলীপ ঘোষরা ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন।

কিন্তু বাংলার মানুষ বিজেপিকে চিনে গিয়েছে”। এইসময় দিলীপ ঘোষের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, নির্বাচনে ভরাডুবির পরেও বিজেপি কর্মী সমর্থকদের চাঙ্গা করে তোলা।

এদিন দিলীপ ঘোষ আরো বলেন, “তৃণমূলের তো ভোট বাড়েনি। লোকসভা ভোটের নিরিখে ওদের ২১৫-২২০ সিট ছিল। কমলো কেন? কারণ বিজেপির ভোট বেড়েছে। বিরোধী দল হিসেবে আমরা প্রথমবার ২৬ গুণ আসন বাড়িয়েছি।

বিরোধী পার্টি হিসেবে সমস্ত পার্টিকে গিলে ফেলেছি। এত হিংসা করেও বিজেপিকে আটকাতে পারেনি। বাকিটা পাঁচ বছর লড়াই করে দেখব।” তবে আগামী পাঁচ বছরে তৃণমূলের সঙ্গে কিভাবে টক্কর দেবে বিজেপি, সেই নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকের।