“বাবুল স্টার, সাংসদ, কখনও বিজেপি হতে পারেননি”, কড়া আক্রমণ দিলীপ ঘোষের

শনিবার দুপুরে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর হাত ধরে গেরুয়া শিবির ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছেন বাবুল সুপ্রিয়। আসানসোলের বিজেপি সাংসদের দলবদল প্রসঙ্গে এবার নীরবতা ভাঙলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

বাবুল সুপ্রিয়কে “রাজনৈতিক পর্যটক” বলে আক্রমণ করে বসলেন তিনি। পাল্টা জবাব দিয়ে বাবুল বললেন, “কে কী বললেন তাতে কিছু যায় আসে না”

অন্যান্য দিনের মতো ভবানীপুর উপনির্বাচনের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের হয়ে প্রচারে বেরিয়ে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। চেতলা বাজারে প্রচার সারেন তিনি। এরপর যোগ দেন চায়ের আসরে।

সেখানেই তৃণমূল কংগ্রেসে বাবুল সুপ্রিয়র যোগদান প্রসঙ্গে নিরবতা ভাঙেন তিনি। তাঁর কথায়, “কে কোথায় গেল, তা নিয়ে কিছু যায় আসে না। আমাদের কোনও ধাক্কা নেই। যারা ধাক্কা খাচ্ছে, তারাই সরে যাচ্ছে। অনেকেই আসছে যাচ্ছে।

কেউ যদি সাত বছর মন্ত্রী থেকে চলে যান, তাহলে ঘটনাটি কী বোঝাই যাচ্ছে। রাজনীতি এখন ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের মতো হয়ে গিয়েছে। বাবুল যা করেন আবেগে করেন। উনি শিল্পী মানুষ। বাবুল স্টার, সাংসদ। বিজেপি হওয়ার চেষ্টা করেননি। বাবুল ভাল রাজনীতি করেন। সেটাই করুন।”

এদিন দিলীপ ঘোষ বাবুল সুপ্রিয়কে “রাজনৈতিক পর্যটক” বলেও আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “দল দলের মতোই চলবে। রাজনৈতিক পর্যটকরা আসবেন, ঘুরে ফিরে চলে যাবেন।” আসানসোলের সাংসদ ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। দীর্ঘ সাত বছরের সম্পর্ক ছিল তাঁর বিজেপির সঙ্গে।

তবে বঙ্গ বিজেপির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুব একটা সুমধুর ছিল না। জানা গিয়েছিল, বাবুলের কার্যকলাপে বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব খুব একটা মনঃপূত ছিলেন না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাই হয়ত মন্ত্রিত্ব হারানোর পর আর দলীয় কোনও কর্মসূচিতে দেখা যায়নি তাঁকে।

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক উস্কে দিয়ে বিভিন্ন পোস্ট করতে ছাড়েননি বাবুল সুপ্রিয়। যদিও বাবুল সুপ্রিয় দাবি করেছিলেন, অন্য কোনও দলে যোগ দেবেন না।

কিন্তু নিজের দাবীকে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণ করে শনিবার দুপুরে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন তিনি। তাতেই ক্ষুব্ধ দিলীপ ঘোষ, “কে কী বললেন তাতে কিছু যায় আসে না”। দিলীপ ঘোষকে বর্ণপরিচয় উপহার দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন বাবুল।