সুরেলা কণ্ঠে অসাধারণ গান গেয়ে স্টেজ কাঁপাল বাংলার জুনিয়র নেহা কাক্কার, ঝড়ের গতিতে ভাইরাল ভিডিও

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে অনেক মানুষই তাদের প্রতিভাকে পৌঁছে দিচ্ছে বিশ্বের দরবারে। এর জ্বলন্ত উদাহরণ হলেন রানু মন্ডল। স্টেশনে ভবঘুরের মতো জীবন যাপন করতেন তিনি, তার ছিল অসাধারণ গানের গলা। এই সময় তার জীবনে আসে দেবদূতের মত অতিন্দ্র চক্রবর্তী,

তিনি রানু মন্ডল এর গলায় কিংবদন্তি লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া “এক পেয়ার কা নাগমা হে” গানটি পোস্ট করে দেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। মুহূর্তেই ঝড়ের মত ভাইরাল হয়ে যায় সারা ভারতবর্ষজুড়ে, এরপরে আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ডাক পেয়েছেন বলিউডে গান গাওয়ার।

ঠিক এরকমই হুগলিতে রয়েছেন আর এক চাঁদ, সাঁওতালি তরুণী চাঁদমণি। যার গানের গলায় মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যান প্রত্যেকটি মানুষ। চাঁদমনির ছিল না কোন তালিম, ছোট্ট থেকে অভাবের সংসারে বড় হয়েছে তারা।পাশের বাড়িতে ফোনে গান শুনে শুনে সে মনে মনে বিড়বিড় করত গানের লাইনগুলো,

এভাবেই শুরু।অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে তার শিক্ষক মহাশয় আসেন চাঁদমনির সঙ্গে দেখা করতে, এসময় তার কানে আসে তার অপূর্ব গানের গলা। কোন তালিম ছাড়াই অভাবের সংসারে চাঁদমনির এই অসাধারণ গানের গলায় মুগ্ধ হয়ে যান শিক্ষক।

তার পোস্ট করা সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওতে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় চাঁদমনি। এরপরে আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক শিল্পীদের সঙ্গে সে গাইছে গান। আগের পূজাতেই বেরিয়েছিল তার একটি নতুন গানের এলবাম। বলিউড থেকেও ডাক পেয়েছে চাঁদমণি।

এর আগে চাঁদমনির গলায় ভাইরাল হয়েছিল শিল্পী নেহা কক্করের একটি গান “ও হামসাফার”। নেহা কক্কর ও হিমাংশ কোহলি অভিনীত এই মিউজিক ভিডিওটিতে গান গেয়েছিলেন স্বয়ং নেহা কক্কর। তার এই গানটি হয়েছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। সেই গান শোনা গেছিল খালি গলায় চাঁদমনির কণ্ঠে।

কোন বাদ্যযন্ত্র ছাড়া এই অপরূপ গেয়ে সকলের মন জয় করেছে চাঁদমনি। তার গলায় মুগ্ধ হয়ে গেছিলেন দর্শক। তার এই গানের গলায় মুগ্ধ হয়েছেন নেহা ও টনি কাক্কার স্বয়ং। স্বয়ং টনি কক্কর তার গলায় এই গানটি শুনে তার সাথে পারফরম্যান্স করার ইচ্ছা জানিয়েছিলেন।

চাঁদমনির পাশে পাশে সব সময় ছিল তার প্রিয় সেন্টুদা। সেন্টুদা ও চাঁদমনিকে আমরা প্রায়ই ডুয়েট গান করতে দেখেছি। পুজোর সময় এছাড়াও নানা রকম উৎসব উপলক্ষে তাদের গান হয়েছে ভাইরাল। কিছু সময় আগে তাদের একটি গান রিলিজ হয়েছিল “এই দিনটা বড় মেঘলা”। গানটি লঞ্চ করা হয়েছিল সেন্টু দার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে। প্রথম দর্শনেই সাড়া ফেলে দিয়েছিল ভিডিওটি। দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে গেছেন ভিডিওটি দেখে। চাঁদমনির গলা মাতিয়ে দিয়েছিল সকলের মন।

সম্প্রতি ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে জয়পুর পর্যটন কেন্দ্রে চাঁদমণি ও সেন্টুদা দুজনই পারফর্ম করতে গেছেন। স্টেজে ওঠার আগে প্রথমেই চাঁদমণি জীবনের বিভিন্ন ঘটনা গুলি তুলে ধরা হয় বড় পর্দায়, তারপরেই এন্ট্রি নেয় চাঁদমনি ও সেন্টু। প্রথমে দুজনেই তারা দর্শককে অনেক শুভেচ্ছা জানায় এর পরেই তারা শুরু করে তাদের গান। তারা প্রথমেই সকলের প্রিয় গানটি “এই মেঘলা দিনে একলা” সকলের সামনে পারফর্ম করে। স্টেজের উপর নানারকম বাদ্যযন্ত্রের সহিত খালি গলায় সকলের সামনে পারফর্ম করে তারা।

তাদের পারফরম্যান্স সোশ্যাল মিডিয়া কাঁপিয়ে দেয়। প্রত্যেকটি দর্শক আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন। তারা বারবার হাততালি দিয়ে তাদেরকে উৎসাহ দেন। তাদের পারফরম্যান্স তাদের করে দিয়েছিল মুগ্ধ। তাদের দুজনের ডুয়েট পারফরম্যান্স দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে।

ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে সেন্টুর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে। প্রায় চার হাজারের মতো মানুষ ভিডিওটি লাইক করেছে। কমেন্ট বক্স তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সকলের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন চাঁদমনি, তার জীবনের কাহিনী সকলের কাছেই এক অনুপ্রেরণা।

ছোট্ট চাঁদমনি এভাবেই যেন তার নিজের জীবনে এগিয়ে যান, এই আশাই করি আমরা। একদমই নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা চাঁদমনি আজ নিজের প্রতিভার জোরে এক তারকা। তার গলা মাতিয়ে দিয়েছে সকলের মন। কোন তালিম ছাড়াই তার এই প্রতিভা সত্যি ভগবান প্রদত্ত।

তার ভক্তরা সবাই তাকে একজন প্রতিষ্ঠিত গায়িকা হিসেবে দেখতে চায় ভবিষ্যতে। সে যেন তার জীবনে এই ভাবে এগিয়ে যায় এই আশাই করি আমরা।