ঘুমন্ত ছোট্ট বোনকে কোলে নিয়েই স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করছে ১০ বছরের দিদি, দেখেই নেটদুনিয়াই ভাইরাল

আমাদের অজুহাতের শেষ নেই, এটা সম্ভব নয় কারণ এই হয়েছে, এটি হবে না কারণ ওটা নেই। অজুহাতের বুকনি ঝেড়ে আমরা পিঠ বাঁচানোর পথ খুঁজি।

কিন্তু এটা ভুলে যাওয়া চলবে না যে ইচ্ছে থাকলে উপায় মিলবেই। যদি লক্ষ্য স্থির থাকে তবে এগিয়ে যাওয়া কেউ আটকাতে পারবে না।

আর তার‌ই নজির মিলল ফের একবার স্যোশাল মিডিয়ার দৌলতে। একটি দশ বছরের মেয়ে, স্কুলের ডেস্কে বসে পড়াশোনা করছে।

সামনে ব‌ইয়ের ব্যাগ, হাতে পেনসিল। সবটাই স্বাভাবিক আর পাঁচটা ছাত্রীর মতো কিন্তু নজর কাড়ছে কোলে থাকা একটি শিশু। মেয়েটির বোন। বাবা মা সারাদিন কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকেন। তাই ছোটোবোনের দেখাশোনার দায়িত্ব দিদির উপরেই, সেই দিদি যার বয়স মাত্র ১০ বছর। স্পেশাল পারমিশন করে স্কুলেও নিয়ে আসছে সে বোনকে। মণিপুরের এক ছোট্ট শহর তামিং লাংয়ের বাসিন্দা সে। নাম মেইনলিং সিন্দীউ পামে। লেখাপড়া করে বড় হ‌ওয়াই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। তাই সমস্যা হলেও পড়াশোনা ছাড়ছে না সে। প্রয়োজনে বোনকে নিয়েই চলে আসছে স্কুলে। কোলে ঘুম পাড়িয়ে মন বসাচ্ছে অঙ্ক বা বিজ্ঞানে। দৃশ্যটি ভাইরাল হতেই নজরে পড়েছে মণিপুরের এক মন্ত্রীর। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন,

গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত পামেইর পড়াশুনার সমস্ত খরচ বহন করবেন তিনি। ট্যুইট করে লিখেছেন, “তার নিষ্ঠা আমাকে অবাক করেছে, প্যামেই মণিপুরের তামিংলাংয়ের দশ বছর বয়সি একটি মেয়ে, তার ছোট বোনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে একই সাথে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে সে, তার বাবা চাষবাস করেন, এই মেয়েটি সেই সকল মানুষের অনুপ্রেরণা যারা সামান্য ঝামেলাতেই ডিপ্রেশনে চলে যায়।” শুধু তিনি নন, নেটিজেনরাও পামেইর এই মনোভাবকে স্যালুট করেছেন এবং প্রশংসার ঝড় তুলেছেন নেটপাড়ায়।