বাংলাকে বিশ্ব সেরা করব, সেটাই আমার টার্গেট! বললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা পৌরসভার নির্বাচনী প্রচার এখন জমজমাট। উত্তর কলকাতার পর এবার দক্ষিণ কলকাতায় জোড়া সভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঘাযতীন এর প্রচার সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কলকাতা পুরসভায় যা কাজ হয়েছে, ভূ-ভারতে কেউ করেনি। বাংলার কারও সার্টিফিকেটের দরকার নেই।

কারণ, বাংলা জানে কিভাবে কাজ করতে হয়”। এদিন প্রার্থীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যেও বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতার সৌন্দর্যায়ন নিয়ে বলতে গিয়ে জনপ্রতিনিধিদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্থায়ীভাবে তাঁকে না জানিয়ে অনেক কনস্ট্রাকশন হচ্ছে। এরপর যেন আর এমনটা না হয় তার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “ববিকে বলেছি বেশি কনস্ট্রাকশন না করতে, একটু ফাঁকা ফাঁকা রাখতে। আমাকে না জানিয়ে তোমরা বেশ কিছু করে দিয়েছ। আর কিছু করবে না।” এদিনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা করেন, “২০২৪ সালের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে যাবে জলের লাইন।”

পানীয় জল প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, “জলকর বসানোর জন্য চাপ দিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু, আমি রাজি হয়নি। বলে দিয়েছি কোনও জলকর নেওয়া যাবে না। দেশের প্রায় সব জায়গায় নেওয়া হয় জলকর কিন্তু আমি রাজি হইনি। বিশ্ব ব্যাঙ্ক থেকে টাকা না পাওয়ার ভয় দেখালেও দমিনি আমি”। উদ্বাস্তু কলোনির নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উদ্বাস্ত কলোনি উচ্ছেদ করা যাবে না। আমি কেন্দ্রকেও বলে দিয়েছি।’ উদ্বাস্ত কলোনির বাসিন্দাদের আইনত পাট্টা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

বাঘাযতীন এর মঞ্চ থেকে ইউনেস্কোর দেওয়া সম্মান নিয়ে আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কালকে সবথেকে বড় উপহার পেয়েছে। আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। আমাদের দুর্গাপুজো বিশ্বে বন্দিত। বিশ্ব সেরা। ২০১৬ থেকে অনেক চেষ্টার পর পুজো কার্নিভাল শুরু করি। বাংলাকে বিশ্ব সেরা করব। সেটাই আমার টার্গেট”।

বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “অনেকে বলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুজো করতে দেয় না। আজ তাদের মুখে চুন কালি পড়েছে। বাংলার পুজো বিশ্বের দরবারে সম্মানিত”। বিরোধীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজ কলকাতার অবস্থা দেখে অনেকে ঈর্ষা করেন আমায়। কিন্তু, আমি যখন শহরে নীল-সাদা রঙ করা শুরু করেছিলাম। তখন অনেকে কটাক্ষ করে বলত আর্জেন্টিনা বানাচ্ছে…।

এখন যখন মুম্বই যাই, দিল্লি যাই, সেখানেও দেখি এখন নীল সাদা রঙ হচ্ছে। তাহলে আমি করলে আর্জেন্টিনা আর ওরা করলে…।” নীল সাদা রঙের ব্যবহার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “নীল-সাদা আমার দলের কালার নয়। এটা আসলে আকাশের প্রতীক। আকাশ সীমানাহীন। আকাশের কোনও সীমানা নেই।”

বুধবার বাঘাযতীনে জনসভার শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনও কাজ ফেলে রাখি না। দুঃস্বপ্নের নয়, কলকাতা এখন স্বপ্নের শহর। যে বাইরে থেকে আসে সেই দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে যায় শহরকে। বেঙ্গালুরু-মুম্বই-দিল্লি-চেন্নাই যেখানেই যান না কেন এত ভালো সাজানো শহর আর পাবেন না।

২৬০ কোটি টাকা খরচ করে টালা ব্রিজ করা হচ্ছে। এছাড়া মেয়েদের জন্য় সবথেকে নিরাপদ শহর কলকাতা”। তাঁর কথায়, “দিল্লিতে পয়সা দিয়ে জল কিনতে হয়। কিন্তু, এখানে জলের জন্য কোনও টাকা লাগে না। জল ফ্রি, রেশন ফ্রি।”