বছরে মাত্র ২ টাকা বেতনে পড়িয়েছেন অসহায় ছাত্রছাত্রীদের, পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হলেন ফকির মাস্টার

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রামের একটি প্রত্যন্ত জনপদ রামনগর, গত নভেম্বরে এই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সুজিত চট্টোপাধ্যায়,

পদ্মশ্রী পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ার পরে হঠাৎ করেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন নেটপাড়ায়। তখনই রামনগরে সদাই ফকিরের পাঠশালা একটি জাতীয়,

আকর্ষণ হয়ে ওঠে। এই অনন্য নামের পেছনের ইতিহাসও সমান আকর্ষণীয়। বর্তমানে ৭৮ বছর বয়সী সুজিত চট্টোপাধ্যায়,

বিশের দশকের গোড়ার দিকে স্নাতকোত্তর শেষ করার পরে স্থানীয় রামনগর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেছিলেন এবং রাজ্যের ব্যস্ত শহরাঞ্চলে অবস্থিত অন্যান্য কয়েকটি স্কুলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, শহরাঞ্চলের স্কুলগুলোর চেয়ে গ্রামবাংলার স্কুলগুলোতে শিক্ষকের বেশি প্রয়োজন ২০০৪ সালে ৬০ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার পর ফাঁকা সময় কাটাতে তিনি বেছে নেন শিক্ষকতাকেই।
সেই সময়ে, আদিবাসী সম্প্রদায়ের তিনজন স্থানীয় মেয়ে তাঁর কাছে শেখার জন্য আসে। ১ টাকা বাৎসরিক ফি এর পরিবর্তে তিনি রাজি হন পড়াতে। গত ১৮ বছরে তাঁর দক্ষিণা দ্বিগুন হয়েছে। অর্থাৎ ২ টাকা।

রামনগরে চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবন সংলগ্ন ফাঁকা জায়গায় অবস্থিত শ্রেণীকক্ষে গড়ে ৩০০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। তিনি জানান, “আমি মাধ্যমিক স্তরে নবম ও দশম, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি এবং স্নাতক স্তরে প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় বর্ষ ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের পড়াই। তাদের সকলের জন্য ফি কাঠামো একই।” তিনি জানান, কমপক্ষে ৩০০০ ছাত্রছাত্রী পড়িয়েছেন তিনি। যাদের মধ্যে অধিকাংশই আদিবাসী মেয়েরা। পদ্মশ্রী পাওয়ার পর কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করতে সুজিত মাস্টার বলেন, “সকালে খবরটা পেলাম। খুবই খুশির খবর। ২০-২২ কিলোমিটার দূর থেকে পড়ুয়ারা পড়তে আসে।যাদের বেশিরভাগই তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের। তবে আমি মনে করি এমন কিছু মহৎ কাজ করিনি।”