নারী শক্তির জয়! সমস্ত বাধা অতিক্রম করে প্রথম ভারতীয় মেরিন ইঞ্জিনিয়ার বাঙালি কন্যা সোনালী ব্যানার্জি

নারীর অসাধ্য কিছুই নেই। দেবী দশভুজার মতোই ঘরের কাজের সাথে বাইরের জগতও সামলায় সে। ইতিহাসের পাতা খুললেই পাওয়া যায় রানী লক্ষীবাই কে রণরঙ্গিনী রূপে, যিনি বীরত্বের সঙ্গে করেছিলেন ইংরেজদের মোকাবিলা।

ভারতবর্ষে নারীকে দেবী রূপে পূজা করা হয়, কিন্তু মানসিক দিক থেকে কতজন সচেতন এই ব্যাপারে? অতীতে নারীদের ছিলনা কোন স্বাধীনতা, লেখাপড়ার ব্যাপারেও তাদের ছিল না কোনো অধিকার। কিন্তু এত বাধা সত্ত্বেও নারীরা হয়েছে বিজয়িনী।

কলকাতার কাদম্বরী গাঙ্গুলী চন্দ্রমুখি বসু এনাদের অদম্য ল’ড়াই শিখিয়েছে নারীকে লড়তে। এমনই এক নারী হলেন প্রথম মহিলা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সোনালী ব্যানার্জি।

সোনালীর কাকা কর্মরত ছিলেন মার্চেন্ট নেভি তে, কার হাত ধরেই সোনালীর সমুদ্রযাত্রা স্বপ্ন দেখা। ১৯৯৫ সালে প্রথম মহিলা হিসেবে মেনে নিন প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করেন তিনি। হুলুস্থুল পড়ে যায় তারা তলার মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে, শিক্ষার্থী কেন, কোন মহিলা কর্মী ও ছিল না সেখানে।

অধ্যাপকের জন্য নির্দিষ্ট কোয়ার্টারে থেকে পড়াশোনা করেন তিনি।পথ ছিল অত্যন্ত দুর্গম কিন্তু সেই কলেজেই সোনালী পুরুষদের সাথে, তাদের কাছে তাচ্ছিল্যের শিকার হয়েও ১৯৯৯ সালে প্রথম মহিলা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

কিন্তু ল’ড়াই তার এখানেই শেষ হয়নি। পাস করার পর কোন কোম্পানি তাকে ট্রেনিং নিতে রাজি হয়নি। অবশেষে মোবাইল শিপিং কো নামে এক সংস্থায় শর্তসাপেক্ষে তিনি ট্রেনিং এর সুযোগ পান। শর্ত ছিলো কোনো রকম ভুল হলেই তাকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হবে।

হার মানেনি সোনালী, বীরাঙ্গনার মত একা কি ভেসে গেলেন সিঙ্গাপুর থাইল্যান্ড হংকং ফিজি হয়ে সুদূর অস্ট্রেলিয়ায়। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।2001 সালে তাকে প্রথম মানব ভারতীয় মহিলা হিসেবে এক মার্চেন্ট নেভির দায়িত্ব পেলেন তিনি।

বারবার বাধা পেলেও তার অদম্য জেদের কাছে হার মানতে হয়েছিল সমস্ত অন্তরায় কে। সোনালী ব্যানার্জি ভারতীয় নারীদের কাছে এক অনুপ্রেরণা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here